Saturday, April 18, 2026
- Advertisement -

ঐতিহাসিক রায়! সাথানকুলাম হেফাজতে মৃত্যু মামলায় ৯ পুলিশ কর্মীর মৃত্যুদণ্ড

- Advertisement -

ঐতিহাসিক রায়! সাথানকুলাম হেফাজতে মৃত্যু মামলায় ৯ পুলিশ কর্মীর মৃত্যুদণ্ড।

অনন্যা ব্যানার্জী, কলকাতা: আইন যখন ঘাতক হয়, আর রক্ষক যখন ভক্ষক—তখন গণতন্ত্রের স্তম্ভ কেঁপে ওঠে। ২০২০ সালের জুন মাসে তামিলনাড়ুর শান্ত শহর সাথানকুলামে পুলিশি বর্বরতার যে বীভৎস ছবি ফুটে উঠেছিল, তা কেবল ভারত নয়, গোটা বিশ্বকে স্তম্ভিত করে দিয়েছিল। লকডাউনের সামান্য নিয়ম ভাঙার অপরাধে এক বাবা ও ছেলেকে থানার অন্ধকারে যে অমানবিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছিল, তার বিচার পেতে সময় লেগেছে প্রায় ছয় বছর। ২০২৬ সালের ৬ এপ্রিল মাদুরাই আদালত যখন ৯ জন পুলিশ অফিসারকে একসঙ্গে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ শোনাল, তখন তা কেবল একটি সাজা ছিল না, বরং উর্দিধারী অপরাধীদের জন্য এক চরম হুঁশিয়ারি হয়ে দাঁড়াল।

২০২০ সালের তামিলনাড়ুর চাঞ্চল্যকর সাথানকুলাম (Sathankulam) হেফাজতে মৃত্যু মামলায়, ৬ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে মাদুরাই আদালত ৯ জন পুলিশ কর্মীকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে।

১৯ জুন ২০২০ তারিখে তামিলনাড়ুর থুথুকুডি জেলার সাথানকুলাম থানায় ব্যবসায়ী পি জয়রাজ (৫৯) এবং তাঁর ছেলে জে বেনিক্স-কে (৩১) লকডাউনের বিধিনিষেধ অমান্য করে দোকান খোলা রাখার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশ হেফাজতে থাকাকালীন তাঁদের ওপর সারারাত ধরে অমানবিক শারীরিক ও যৌন নির্যাতন চালানো হয়েছিল বলে অভিযোগে বলা হয়।

গুরুতর আঘাতের কারণে হাসপাতালে ভর্তির পর ২২ ও ২৩ জুন পর্যায়ক্রমে পিতা ও পুত্রের মৃত্যু হয় মাদুরাইয়ের প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা বিচারক জি মুথুকুমারন এই ঘটনাকে ‘বিরলতম অপরাধ’ (Rarest of Rare) হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি জানান যে, জনসাধারণের রক্ষক হয়ে পুলিশ যখন খুনি হয়ে ওঠে, তখন কঠোর শাস্তিই কাম্য। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন ইনস্পেক্টর এস শ্রীধর, সাব-ইনস্পেক্টর রঘু গণেশ ও বালকৃষ্ণণ সহ মোট ৯ জন। মামলার ১০ নম্বর অভিযুক্ত পালদুরাই বিচার চলাকালীনই মারা যান। সিবিআই এই মামলার তদন্ত করে চার্জশিট জমা দিয়েছিল, যেখানে ঠান্ডা মাথায় পরিকল্পিতভাবে খুনের তথ্য উঠে আসে।

অবশেষে দীর্ঘ ছয় বছর পর সাথানকুলামের জয়রাজ এবং বেনিক্সের পরিবার সুবিচার পেল। ৯ জন পুলিশ অফিসারের এই মৃত্যুদণ্ডের রায় ভারতীয় বিচারব্যবস্থার ইতিহাসে এক মাইলফলক হয়ে থাকবে। এটি কেবল একটি খুনের মামলার সাজা নয়, বরং ‘কাস্টোডিয়াল ডেথ’ বা পুলিশি হেফাজতে মৃত্যুর বিরুদ্ধে এক কঠোর বার্তা।

যখন আইনের রক্ষকরাই আইন হাতে তুলে নিয়ে সাধারণ মানুষকে পশুর মতো নির্যাতন করে, তখন আদালত এই কঠোরতম সাজার মাধ্যমে প্রমাণ করল যে—উর্দির আড়ালে অপরাধ করে পার পাওয়া অসম্ভব। এই ঐতিহাসিক রায় ভবিষ্যতে পুলিশি ক্ষমতার অপব্যবহার রোধে এবং সাধারণ মানুষের মনে বিচার ব্যবস্থার প্রতি আস্থা পুনরুদ্ধারে এক ধ্রুবতারা হয়ে কাজ করবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -spot_img
- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments