শিক্ষার মন্দিরে দুর্নীতির থাবা! খণ্ডঘোষের ওয়ারী উচ্চ বিদ্যালয়ে ভোকেশনাল ফান্ডের কোটি কোটি টাকা লুট
অনন্যা ব্যানার্জী, কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বৃত্তিমূলক শিক্ষা বা ভোকেশনাল কোর্সের মূল লক্ষ্য ছিল গ্রামবাংলার ছাত্রছাত্রীদের স্বনির্ভর করা। কিন্তু খণ্ডঘোষের ওয়ারী উচ্চ বিদ্যালয়ে সেই সরকারি অনুদানই এখন এক বিরাট দুর্নীতির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। ল্যাবরেটরির সরঞ্জাম থেকে শুরু করে পড়ুয়াদের স্টাইপেন্ড—অভিযোগ উঠেছে, উন্নয়নের নাম করে আসা লক্ষ লক্ষ টাকা মাঝপথেই অদৃশ্য হয়ে গেছে। শিক্ষক থেকে পরিচালনা সমিতি, কার অঙ্গুলিহেলনে সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের ভবিষ্যতের টাকা কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তির পকেটে গেল? এই আর্থিক কেলেঙ্কারির অন্তরালে থাকা ‘মাস্টারমাইন্ড’ কারা? সত্য অনুসন্ধানে নেমে উঠে আসছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য।
পূর্ব বর্ধমান জেলার খণ্ডঘোষের ওয়ারী উচ্চ বিদ্যালয়ে ভোকেশনাল কোর্সের তহবিল তছরুপ এবং আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে স্থানীয় স্তরে যথেষ্ট চাঞ্চল্য রয়েছে।
বিদ্যালয়ের তৎকালীন প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ভোকেশনাল কোর্সের নথিপত্র এবং আর্থিক হিসেবে অসঙ্গতির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, খাতা বা রেকর্ড ঠিকমতো রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়নি এবং পরে সেগুলো নথিবদ্ধ করার চেষ্টা হয়েছে।
এই দুর্নীতির বিষয়ে স্থানীয় বিধায়ক এবং জেলা স্কুল পরিদর্শককে (DI) প্রশ্ন করা হলেও নির্দিষ্ট কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে জেলাশাসক (DM) এবং স্কুল পরিদর্শকের দপ্তরে তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।
যদিও এই নির্দিষ্ট দুর্নীতির চূড়ান্ত তদন্ত রিপোর্ট নিয়ে এখনো কোনো বড় খবর প্রকাশ হয়নি, তবে খণ্ডঘোষ এলাকায় প্রশাসনিক নজরদারি বৃদ্ধি পেয়েছে। সম্প্রতি নির্বাচন কমিশন রাজনৈতিক প্রচারের অভিযোগে খণ্ডঘোষের জয়েন্ট বিডিও (Joint BDO)-কে সাসপেন্ড করেছে, যা স্থানীয় প্রশাসনের ওপর চাপের ইঙ্গিত দেয়।
আশ্চর্যের বিষয় হলো, বারবার অভিযোগ করা সত্ত্বেও খণ্ডঘোষের ব্লক প্রশাসন বা উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের পক্ষ থেকে কোনো কড়া পদক্ষেপ এখনও দৃশ্যমান নয়। এই ‘রহস্যজনক নীরবতা’ দুর্নীতির শেকড় আরও গভীরে থাকার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
শিক্ষার আঙিনায় এমন আর্থিক অনিয়ম কেবল একটি বিদ্যালয়ের বদনাম নয়, বরং গোটা শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর সাধারণ মানুষের আস্থাকে টলিয়ে দেয়। খণ্ডঘোষের ওয়ারী উচ্চ বিদ্যালয়ের ভোকেশনাল কোর্সের এই দুর্নীতির পেছনে যারা সত্যিই দায়ী, তাদের আড়াল করা মানে ভবিষ্যতের পড়ুয়াদের অন্ধকার ভবিষ্যতের দিকে ঠেলে দেওয়া। সাধারণ মানুষের দাবি—কেবল দায়সারা তদন্ত নয়, বরং জেলা প্রশাসন ও বিকাশ ভবনের পক্ষ থেকে কড়া পদক্ষেপ নিয়ে প্রকৃত দোষীদের শাস্তির আওতায় আনা হোক। ছাত্রছাত্রীদের জন্য বরাদ্দ সরকারি অর্থ যাতে ফের বিদ্যালয়ের উন্নয়নের কাজে ব্যবহৃত হয়, এখন সেটাই দেখার। দুর্নীতির মেঘ কাটিয়ে কবে শুভবুদ্ধির উদয় হবে এবং ওয়ারী স্কুল আবার তার পুরনো গৌরব ফিরে পাবে, সেই প্রতীক্ষায় রয়েছেন খণ্ডঘোষের আপামর জনতা।

