প্রতিটি পদক্ষেপে বাড়ছে সংঘাতের পারদ।
অনন্যা ব্যানার্জী, কলকাতা:
টানটান উত্তেজনা। আসন্ন ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক তৎপরতা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে তীব্র দড়িটানাটানি এবং নির্বাচন কমিশনের সাম্প্রতিক কঠোর অবস্থান এই মূহুর্তে রাজ্যের প্রধান আলোচনার বিষয়।
একদিকে প্রায় ৬৫ লক্ষ ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়া নিয়ে রাজপথে আন্দোলনে নেমেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অন্যদিকে নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণার ঠিক আগের মুহূর্তে রাজ্যে পা রেখেছে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চ। SIR প্রক্রিয়ার পর রাজ্যের ভোটার সংখ্যা ৭.৬৬ কোটি থেকে কমে দাঁড়িয়েছে ৭.০৪ কোটিতে। প্রায় ৬৩.৬৬ লক্ষ নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে এবং আরও ৬০ লক্ষ ভোটার বর্তমানে ‘বিচারধীন’ তালিকায় রয়েছ।
তালিকা থেকে ঢালাও নাম কাটার প্রতিবাদে এসপ্ল্যানেডে ধরনায় বসেন মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, ষড়যন্ত্র করে বেছে বেছে ভোটারদের অধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের নেতৃত্বে কমিশনের প্রতিনিধি দল বর্তমানে কলকাতায়।
রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে বৈঠকে সোমবার উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়, যেখানে তৃণমূল প্রতিনিধিরা কমিশনের বিরুদ্ধে ‘দুর্ব্যবহারের’ অভিযোগ তুলেছেন। বিজেপি সরকার ১ থেকে ৩ দফার মধ্যে দ্রুত ভোট সম্পন্ন করার দাবি জানিয়েছে। সিপিএম এক দফায় ভোট করানোর পক্ষে সওয়াল করেছে। ভোটার তালিকা সংক্রান্ত বিতর্কে হস্তক্ষেপ করেছে দেশের সর্বোচ্চ আদালতও।
বাদ পড়া নামগুলো পুনর্মূল্যায়নের জন্য ওড়িশা ও ঝাড়খণ্ড থেকে বিচারবিভাগীয় কর্মকর্তাদের নিয়োগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সুপ্রিম কোর্ট থেকে।
ভোটের আগেই ভোটার তালিকা নিয়ে এই আইনি লড়াই রাজ্য রাজনীতিতে নতুন মোড় এনেছে।সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদ প্রয়োগ করে সুপ্রিম কোর্ট যে বার্তা দিল, তা নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতার ক্ষেত্রে এক নজিরবিহীন ঘটনা। ওড়িশা ও ঝাড়খণ্ডের বিচারকদের এই প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ আগামী দিনে সব রাজ্যের জন্যই এক দৃষ্টান্ত হয়ে থাকতে পারে।

