নিজস্ব প্রতিনিধি , বাঁকুড়া:- গোবিন্দ লায়েক, বাঁকুড়া জেলার ইন্দপুর ব্লকের তেঁতুলিয়া গ্রামের মধ্যবয়স্ক কৃষক এবং রিলায়েন্স ফাউন্ডেশন এর ডিজিটাল ফার্ম স্কুল এর একজন সক্রিয় সদস্য। পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট পরিবারটির জীবিকা ধান, সবজি চাষ, গাভী পালন ও মৎস্য চাষের উপরেই নির্ভরশীল। এই কৃষি থেকে অর্জিত রোজগার দিয়েই গোবিন্দ বাবু দুই ছেলেকে লেখাপড়া শেখাচ্ছেন, তার মধ্যে একটি ছেলে বর্তমানে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার নিয়ে পাঠরত। এলাকায় সভ্রান্ত পরিবারের অভিজ্ঞ কৃষক হিসেবে গোবিন্দ বাবু অত্যন্ত সুপরিচিত। গোবিন্দ বাবু রিলায়েন্স ফাউন্ডেশন এর সাথে 5 বছর ধরে যুক্ত আছেন। এই সময় কালে আধুনিক ব্যয় সাশ্রয়ী কৃষির খুঁটিনাটি বিষয়গুলি জানা এছাড়াও মাটি পরীক্ষার মাধ্যমে জমির উর্বরতা শক্তি যাচাই করেই ফসল ফলাচ্ছেন, ফলে লাভের অঙ্ক অনেকটাই বেশি।
সম্প্রতি মে ২০২২ সালে রিলায়েন্স ফাউন্ডেশন ধান চাষের সাথে যুক্ত কৃষক দেড় নিয়ে একটি “ডিজিটাল ফার্ম স্কুল” শীর্ষক একটি অভিনব প্রকল্প চালু করে। প্রকল্পে বর্তমানে বাঁকুড়া জেলার ১৫০ জন কৃষক সদস্য। মূলতঃ জৈব ও আধুনিক কৃষি পদ্ধতির
সাথে কৃষককে দক্ষ করে তুলে তাঁর রোজগার বাড়ানোই মূল লক্ষ্য। বিশেষজ্ঞ হিসেবে যুক্ত আছেন রিলায়েন্স ফাউন্ডেশন ও কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্রের বিজ্ঞানী। বিগত মরশুমে গোবিন্দ বাবু এই ফার্ম স্কুল থেকে ধান চাষের উদ্ভাবনী বিষয়গুলি রপ্ত করে প্রায় সাত বিঘা জমিতে বাংলার বিখ্যাত আমন ধান চাষ করেছেন। ফার্ম স্কুল এর শিক্ষা ছাড়াও হেল্পলাইন নম্বর ১৮০০ ৪১৯ ৮৮০০ থেকেও প্রয়োজনমতো তথ্য আদানপ্রদান করে নিজের দক্ষতাই শুধু বাড়ান নি, ধান চাষকে করে তুলেছেন লাভজনক। এই মরশুমে তাঁর ধান চাষে খরচ হয়েছে প্রায় ৪৫,০০০/- টাকা। অন্যান্য বছর সম পরিমান জমিতে উৎপাদন হয় বিঘা প্রতি গড়ে চার কুইন্টাল এর মতো। অর্থাৎ সাত বিঘা জমির ধান উৎপাদনের পরিমান ছিল প্রায় ২৮-৩০ কুইন্টাল। কিন্তু “ডিজিটাল ফার্ম স্কুল” থেকে একাধিক প্রশিক্ষণ, হোয়াটস্যাপ গ্রূপ থেকে প্রাপ্ত তথ্য, এবং সয়েল হেলথ কার্ড -এর সুপারিশমতো সার প্রয়োগের ফলে এ বছর উৎপাদনের পরিমান ৩৮.৫ কুইন্টাল, অর্থাৎ প্রায় আট কুইন্টাল বেশি। বর্তমান বাজার দর ৪০০০/- টাকা প্রতি কুইন্টাল।
গোবিন্দ বাবু আজ রিলায়েন্স ফাউন্ডেশনের “ডিজিটাল ফার্ম স্কুল” এর ফলে উপকৃত তো বটেই, গর্বিতও বটে !! তাঁর কথায় “ ডিজিটাল ফার্ম স্কুল সত্যিই এক অভিনব প্রকল্প, যেখানে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে চাষের শুরু থেকে শেষ খুঁটিনাটি বিষয়গুলি কৃষককে শিখিয়ে তাঁদের কৃষিকে সুস্থায়ী এবং কৃষককে প্রকৃত অর্থেই আত্মনির্ভর করে তুলেছে “।

